আজ বদর দিবস

তিস্তা এক্সপ্রেসতিস্তা এক্সপ্রেস
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:৫৩ PM, ৩০ এপ্রিল ২০২১

বদরের যুদ্ধএ যুদ্ধটি বদর প্রান্তরে রাসূল (সা.) এর মুমিন বাহিনী ও মক্কার কুরাইশদের মাঝে সংঘটিত হয়েছিল। এটি ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম সশস্ত্র জিহাদ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ গুলোর মধ্যে অন্যতম।

এ যুদ্ধের মাধ্যমে মুসলিমরা সংখ্যায় অনেক কম হয়েও মক্কার কুফরী শক্তিকে পরাজিত করে ইসলামের স্বর্ণোজ্জল সূচনার সৃষ্টি করেন। এর মাধ্যমে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য সূচিত হয়ে যায়। এজন্য বদরের দিনকে ‘ইয়েউমুল ফুরক্বান’ তথা সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের দিন বলা হয়।

কুরাইশের কাফেরদের সীমাহীন জুলুম-নির্যাতনের প্রেক্ষিতে রাসূল (সা.) মদিনায় তার সাহাবাদের নিয়ে হিজরত করার পরে কুরাইশদের সন্ত্রাসমূলক অপততপরতা ও প্রকাশ্যে হামলা সমূহ মোকাবিলার জন্য আল্লাহপাক মুসলমানদেরকে সশস্ত্র জিহাদের অনুমতি দান করেন। এরপর প্রথম হিজরী রমাদ্বান থেকে কুরাইশদের হামলা প্রতিরোধে মদিনার বাহিরে নিয়মিত সশস্ত্র টহল অভিযান পরিচালিত হয়। যা এক বছর অব্যহত থাকে।

অতঃপর দ্বিতীয় হিজরীতে বদর যুদ্ধের প্রাককালে জিহাদ ফরজ করা হয়। এরই মধ্যে একদিন রাসূল (সা.) খবর পান যে, আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে বিরাট এক ব্যবসায়ী কাফেলা মদিনার নিকটবর্তী হাওরা নামক স্থান দিয়ে অতিক্রম করবে। যাদের রয়েছে ১ হাজার উট বোঝাই কমপক্ষে ৫০ হাজার স্বর্ণমুদ্রার ধন-সম্পদ।

এ বিপুল সম্পদ কুরাইশদের হস্তগত হলে মুসলিমদের উপর অত্যসন্ন বিপদ বিবেচনায় এবং মক্কায় মুসলিমদের উপর পরিচালিত নির্যাতন এবং লুন্ঠনের প্রতিশোধ স্বরুপ রাসূল (সা.) এ ব্যবসায়ী কফেলায় আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন।

আবু সুফিয়ান এ সংবাদ পেয়ে মক্কায় সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠায়। ফলে আবু জাহেলের নেতৃত্বে ১৩০০ সৈন্যের এক সুসজ্জিত বাহিনী তাদের সাহায্যে রওনা হয়ে যায়।

এদিকে আবু সুফিয়ান মক্কী ফৌজকে ফিরে যেতে বলে জানায় যে, তিনি মুসলিমদের আক্রমণ এড়িয়ে নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

এ সংবাদ শুনে বাহিনীর সবাই মক্কায় ফিরে যেতে মত প্রকাশ করলেও আবু জাহেল তা প্রত্যাখান করে দম্ভভরে বলে ওঠেন, “আল্লাহর কসম! আমরা অবশ্যই বদরে যাব ও সেখানে তিনদিন অবস্থান করবো ও আমোদ-ফুর্তি করে পান ভোজন করবো। মদ পান করবো। এর ফলে সমগ্র আরব জাতির উপরে আমাদের শক্তি প্রকাশিত হবে। ফলে তারা সর্বদা আমাদেরকে ভয় করে চলবে। সুতরাং এগিয়ে চল…”

এ সময় মুশরিক বাহিনীতে ছিলো ১০০০ জন সৈন্য, সশস্ত্র সৈন্য ৬০০ জন, ঘোড়া ৩০০ টি, উট ৭০০ টি।

অপরদিকে মুসলিম বাহিনীতে ছিলো মাত্র ৩১৩ জন সৈন্য, তলোয়ার ৮ টি, ঘোড়া ২ টি, উট ৭০ টি।

অবশেষে দ্বিতীয় হিজরী ১৭ই রমাদ্বান রোজ শুক্রবার বদরের প্রান্তরে উভয় বাহিনী পরস্পরের মুখমুখি হয়।

মুসলিম বাহিনীর সুস্পষ্ট বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। কাফেররা শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়ে পালিয়ে যায়। এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর মাত্র ১৪ জন শহীদের বিপরীতে মুশরিক বাহিনীর সেনাপতি আবু জাহেল সহ ৭০ জন কাফের সৈন্য নিহত হয় এবং আরো ৭০ জনকে বন্দি করা হয়।

ইসলামের ইতিহাসে ’বদর যুদ্ধ’ এতোটাই গুরুত্ববহ ছিলো যে, এ যুদ্ধে মুসলিমরা পরাজিত হলে পৃথিবীর বুক থেকে ইসলামের নাম ও নিশান মুছে যেত। তাইতো রাসূল (সা.) মহান আল্লাহর কাছে এ বলে মিনতি করেছিলেন, “হে আল্লাহ! যদি এ ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে আজকের দিনের পরে তোমার ইবাদত করার মতো এ জমিনে আর কোন মানুষ থাকবে না।”

এছাড়াও বদরের এ দিনকে চিরস্বরণীয় করে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল। কাজেই আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো।” (আল ইমরান-১২৩)

-আলিফ রহমান

আপনার মতামত লিখুন :