আমতলীতে আ’লীগ ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

তিস্তা এক্সপ্রেসতিস্তা এক্সপ্রেস
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:২৮ PM, ০৯ জুন ২০২১

প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আগামী ২১ জুন ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে বরগুনার আমতলী উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং প্রচার- প্রচারনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার হলদিয়া ইউপি অফিস বাজারে পুলিশের উপস্থিতিতে দল মনোনিত ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্র্থীর কর্মী- সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে, ওই নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামীলীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম মৃধা গতকাল (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় (অফিস) বাজারে নৌকা মার্কার নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করার জন্য উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান ও গত ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ জাকির হোসেন বিশ্বাসসহ তার কর্মী- সমর্থকদের নিয়ে মিছিল সহকারে অফিস বাজারে পৌছায়। ওই সময় সেখানে অপর স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক তার কর্মী- সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী কার্যালয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিতিতে নির্ধারিত কর্মীসভা করেন।
এ সময় উভয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী- সমর্থকরাও পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পূর্ব থেকে ওইখানে অবস্থান নেয়া আইন শৃংঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতেতে উভয়পক্ষ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। প্রায় আধা ঘন্টাব্যাপী চলে এ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। অভিযোগ রয়েছে পুলিশের উপস্থিতিতে সরকার দলীয় প্রার্থীর কর্মী- সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী- সমর্থকদের ধাওয়া করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ স্থাণীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থাণীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উভয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে পাল্টাপাল্টি শ্লোগান দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তারা আরো জানায়, পুলিশের সামনেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সরকার দলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের মহড়া দিতে দেখা যায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই সরকার দলীয় মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ শহিদুল ইসলাম মৃধার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত ডাকাত জাকির প্যাদা, জুয়েল বারী, রিন্টু হাওলাদার, রিপন মৃধা, হানিফ তালুকদারসহ আরো অনেকে চাপাতি রামদা, ছেনাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার আনারস মার্কার কর্মী- সমর্থকদের ধাওয়া করার চেষ্টা করে। আমার কর্মী- সমর্থকরা এর প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে আধাঘন্টা পর্যন্ত ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।
আওয়ামীলীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ শহিদুল ইসলাম মৃধা বলেন, আমি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে নিয়ে অফিস বাজারে আমার নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করতে গেলে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী- সমর্থকরা অহেতুকভাবে উত্তেজনা ছড়ানোর জন্য স্লোগান দিতে থাকে। এসময় আমার কর্মী- সমর্থকরা পাল্টা স্লোগান দিতে থাকে। ওখানে দেশীয় অস্ত্রের কোন মহড়া হয়নি।
আমতলী থানার পরিদর্শক (ওসি) মোঃ শাহআলম বলেন, ধাওয়া পাটা ধাওয়া ঘটলেও পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। ওই রাতে  পুলিশের সামনে দেশীয় অস্ত্রের কোন মহড়া হয়নি। এ ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি।
মোঃ হুমায়ুন কবির/তিস্তা এক্সপ্রেস

আপনার মতামত লিখুন :