পাটগ্রামে শিক্ষকদের কাছে ঘুষ দাবীঃ তোপেরমুখে অবরুদ্ধ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা!

তিস্তা এক্সপ্রেসতিস্তা এক্সপ্রেস
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৪২ PM, ০৫ মে ২০২১

এসডি দোহা, পাটগ্রাম প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সপ্রাবি সহকারী শিক্ষকদের কাছে ঘুষ দাবী করায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন শিক্ষক সমাজ। এ সময় উত্তেজিত শিক্ষকদের তোপেরমুখে পড়েন উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম। তাঁর কার্যালয়ে তালা লাগানোর চেষ্টা করেন শিক্ষকরা।বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির মত পরিস্থিতি তৈরী হয়।
উত্তেজিত শিক্ষকরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন। তাঁরা বলেন, সরকার ঘোষিত ১৩ তম গ্রেডের হালনাগাদ তথ্য পূরণে সার্ভার সমস্যা দেখিয়ে মাসের পর মাস ফাইল আটকিয়ে রাখা হয়। প্রতিটি ফাইলে হাজার টাকা ঘুষ দাবী করে বসেন তিনি।এছাড়া হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার নিত্যনতুন নিয়মকানুন ছাড়াও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তোলা হয়। এপ্রিল মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পাওয়া প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে কঠোর হতে বাধ্য হন শিক্ষকরা।
এরপর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ও ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। ঘুষ -দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে স্লোগান দিতে দিতে পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।তাঁরা বলেনন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সপ্রাবি সহকারী শিক্ষকদের দাবী মেনে নিয়ে ১৫ তম গ্রেডিং পরিবর্তে ১৩ তম গ্রেডিং প্রদান করেন। সরকার ঘোষিত সেই পদমর্যাদা পরিবর্তনে সফটওয়্যার আইবাস প্লাস ও পে ফিক্সিশনে তথ্য হালনাগাদ করা হয়নি। শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কার্যালয়ে কাগজপত্র জমা দেন। ফাইলপত্র হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফরওয়ার্ড করেন শিক্ষা কর্মকর্তা।
দুই কার্যালয়ের টানাটানিতে শিক্ষকদের হয়রানী হতে হচ্ছে। পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন এবং বিক্ষুব্ধ শিক্ষকদের নিয়ে প্রায় একঘন্টা যৌথ আলোচনা করেন।
 সভা শেষে ঈদের আগেই শিক্ষকদের বেতন, বোনাস উত্তোলণের বিষয়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়। এ সময়
ছাট-পানবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম প্রামানিক লিবন সাংবাদিকদের বলেন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম শিক্ষকদের তথ্য হালনাগাদ না করে হয়রানি করে আসছেন।
৩ নং ভোটহাট খাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়না। শিক্ষকদের শুধু না হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মানুষকে মানুষ মনে করেনা।
 এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,শিক্ষকদের এনআইডি দিয়ে টেস্ট করে দেখা হয়েছে। আইবাস ম্যানেজমেন্টের সমস্যা আছে।আশা করা হচ্ছে,শীঘ্রই সমস্যা সমাধান হবে।

আপনার মতামত লিখুন :