Tista Express Logo
ঢাকাবুধবার , ১ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. Active
  2. অন্যান্য
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. করোনাভাইরাস
  9. কৃষি ও প্রকৃতি
  10. ক্যাম্পাস
  11. খেলাধুলা
  12. গণমাধ্যম
  13. জবস
  14. জাতীয়
  15. জেলা/উপজেলা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পুলিশ সুপারের বদৌলতে বদলে গেল সেলিমের জীবন

মাসুম লুমেন
সেপ্টেম্বর ১, ২০২১ ৭:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আজকের সেলিম আর গত এক বছর আগের সেলিমের পার্থক্য অবিশ্বাস্য রকমের। চোখে মুখে সুখী মানুষের ভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সেলিমের চেহারায়। গত এক বছরে সেলিমের জীবনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তন হয়েছে তার কথা বার্তা এবং আচার আচরণেও।

এইতো এক বছর আগের কথা। কাঁদা-ময়লায় মাখামাখি সেলিম। হাত-পা শিকল দিয়ে বাঁধা। কথাবার্তায় অসংলগ্ন সেলিম ভাসমান অবস্থায় শহরের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াতো আর উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে দিন কাটতো। যেখানে রাত, সেখানেই ঘুমিয়ে পড়তো সে। করোনাকালীন সময়ের প্রথম দিকে হোটেল রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় সেলিমসহ অন্যান্য মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিরা খাবার না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতো। ঠিক সে সময় এক রাতে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের সময় দেখা পান সেলিমের। হাত-পা শিকলে বাঁধা যৌবন দীপ্ত সেলিমকে এভাবে দেখে কৌতূহল জাগে তার। গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় সেলিমের চিকিৎসাসহ যাবতীয় দায়িত্ব পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেন পুলিশ সুপার। তখন থেকেই চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু হয় সেলিমের। চিকিৎসকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অবশেষে সুস্থ হয়ে ওঠে সেলিম।

আজ সেই সেলিম পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে। সুস্থ জীবনে ফিরলেও জীবিকা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। সেই চিন্তারও অবসান ঘটে পুলিশ সুপার এর আরও একটি অনন্য পদক্ষেপে। আজ বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের আয়োজনে সেলিমের বাড়ির পাশে নশরতপুরে ‘সদাইপাতি’ নামে একটি মুদি দোকান ও নগদ অর্থ উপহার দেন
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। আর তাতেই নতুন আলোয় উদ্ভাসিত হয় অন্ধকারে নিপতিত হয়ে থাকা সেলিমের জীবন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান, গাইবান্ধা ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ নূর-ই আলম সিদ্দিক, ট্রাফিক অফিসার তৌহিদুল ইসলাম, এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার ছাবেদ আলীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

এ ব্যাপারে সেলিম বলেন, জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম আমার জন্য যা করেছেন, সেই ঋন আমি কোনদিন শোধ কর‍তে পারবো না। আল্লাহর কাছে তার জন্য দু’হাত ভরে সারাজীবন দোয়া করবো।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশি কাজের বাহিরেও আমরা বিভিন্ন ধরনের মানবিক কাজ করে থাকি। ২০২০ সালের ৮ই জুন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারি সেলিম নামে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী রয়েছে যার হাত-পা শিকলে বাঁধা এবং চিকিৎসার অভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন। পরে ১৫ জুন পাবনার মানসিক হাসপাতালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ৪ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। সেলিম যেন ভালভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে সে জন্য তাকে উপকরন সহ দোকানঘর ও নগদ অর্থ উপহার দেওয়া হয়েছে’। এ ধরনের অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য ভবিষ্যতেও তার এমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।