প্রধান শিক্ষকের রোষানলে নৈশপ্রহরী, বেতন বন্ধ দুই বছর

মাসুম লুমেনমাসুম লুমেন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:১৭ PM, ২৮ মে ২০২১

বাড়ি ঘরের সবখানে অভাবের চিহ্ন স্পষ্ট নৈশপ্রহরী আব্দুর রহমানের। অসুস্থতার জন্য ঠিকমতো হাটতেও পারেন না। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে কিছুদিন আগে জীবন সঙ্গী স্ত্রীকে হারিয়ে অনেকটাই মানসিকভাবে ভেঙে পরেছেন তিনি।

বিনা অপরাধে দুই বছর থেকে তাকে বেতন তুলতে দেননি প্রধান শিক্ষক। সেই থেকেই দুঃস্বপ্নের দিন শুরু। টানা দুই বছর বেতন বন্ধ থাকায় পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছে আব্দুর রহমানের পরিবার। ভাঙ্গা ঘর, টিনের চালাও ফুটো। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাথা-বালিসসহ ঘরের সবকিছু ভিজে যায়।

দীর্ঘদিন থেকে নৈশপ্রহরী হিসেবে আব্দুর রহমান চাকরি করেন বাড়ির পাশেই সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাহাবাজ উচ্চ বিদ্যালয়ে। তার হটাৎ করে বেতন ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার কারন, জাতীয় পরিচয় পত্রে বয়স ভুল। অথচ তার জন্মসনদে ও সার্টিফিকেটে বয়স ঠিকই আছে!

এদিকে সংশোধনের জন্য আবেদন করা হলেও, অসুস্থতা কিংবা বয়স নয়, বরং এই পদে অন্য একজনকে নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়াই বেতন বন্ধের অন্যতম কারন বলে জানান স্থানীয়রা।

তারা অভিযোগ তুলে বলেন, ১৯৭৮ সালের ৮ম পাশের স্কুল সার্টিফিকেট ও জন্ম সনদে বয়স ঠিক থাকলেও অন্তিম মহুর্তে এসে বেতন বন্ধ করেছেন প্রধান শিক্ষক। এখনো প্রতিমাসের বেতন সীটে তার বেতন আসে। বয়সের ভুল থাকলে সরকারের পক্ষ থেকেই বেতন বন্ধ করে দেওয়ার কথা। ভোটার আইডি কার্ডে জন্মতারিখ বা নামের ক্ষেত্রে অনেকেরই ভুল হয়। এই প্রধান শিক্ষক ইত্যিমধ্যে সাহাবাজ গ্রামের আবুল মন্ডলের ছেলে সর্দার এর এক লাখ এবং একই গ্রামের মেহেরাজ মণ্ডলের ছেলে মতিয়ার মন্ডলের কাছে থেকে দুই লাখ টাকা নেন প্রধান শিক্ষক ফাতেমা আক্তার। স্থানীয়দের প্রতিবাদ জানালে শালিসি বৈঠকে সর্দার নামের ওই প্রার্থীর এক লাখ টাকা ফেরত দেন প্রধান শিক্ষক ফাতেমা। এদিকে প্যাটার্ন বহির্ভূত ৩জন শিক্ষককে নিয়োগ দিয়ে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এরমধ্যে দুজন শিক্ষক এখনো বেতনহীনভাবে ঝুলে আছে অর্ধ যুগ ধরে।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে নৈশপ্রহরী আব্দুর রহমান বলেন, “আমার বয়স শেষের দিকে। চাকরি শেষ হওয়ার আগেই বেতন বন্ধ করে দেওয়ায় অর্থের অভাবে স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে না পেরে চোখের সামনেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমি আমার চাকরি ও বেতন ভাতা ফেরত পেতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি”।

অভাব অনটনের সংসারে পাঁচ সন্তান ও নাতি-নাতনিসহ বিরাট এই পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করতে না পেরে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে নৈশপ্রহরী আব্দুর রহমান ও তার পরিবার।

মাসুম লুমেন/ তিস্তা এক্সপ্রেস

আপনার মতামত লিখুন :