বিলীনের পথে গাইবান্ধার চরের রাজা কুন্দের পাড়া

মাসুম লুমেনমাসুম লুমেন
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:১৬ PM, ৩১ মে ২০২১

নদী বেষ্টিত গাইবান্ধায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই  সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্রের পার প্রবল বেগে ভাঙতে শুরু করেছে। আর এবারের এই ভাঙ্গনে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত গাইবান্ধা জেলার চরের রাজা খ্যাত কুন্দেরপাড়া গ্রামটি ভয়াবহ ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে।

গত কয়েকদিনের ব্যবধানে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে কুন্দের পাড়া গ্রামে বিলীন হয়েছে নদীপাড়ের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন শতাধিক পরিবারের প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ। ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে গেছে এসব পরিবার। বাস্তহারা হয়েছেন সরকারি আশ্রায়ণ প্রকল্প ‘মুজিব কেল্লা’র ৫৫টি পরিবার। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে, ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ১টি বাজারের প্রায় ৫৫টি দোকানঘর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীতে পানি বৃদ্ধির পরিমান কম হলেও তীব্র স্রোতের কারনে ভাঙছে ব্রহ্মপুত্রের পাড়। গত ১০ দিনে ব্রহ্মপুত্র পাড়ের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও গাছপালা ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে কুন্দের পাড়া গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অসহায় পরিবারগুলো জেগে থাকা  অন্য চরে অস্থায়ীভাবে ঘর স্থাপন করছেন। আকষ্মিক এই ভাঙ্গন পরিস্থিতিতে অসহায়  মানুষজন আবাসন, নিরাপদ পানি এবং পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার অভাবে ব্যপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

১৯৯৫ সালে আধুনিক কুন্দের পাড়া গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে গাইবান্ধার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র। গত ২৬ বছরে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্বাবধানে বিদ্যুৎ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আধুনিক ভবন ও সংস্কৃতি চর্চায় গাইবান্ধার ১৬৫টি চরের মধ্যে কুন্দের পাড়া চরটি হয়ে ওঠে একটি মডেল চর। বর্তমানে  কুন্দেরপাড়া কেবলাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় এবং কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি বিদ্যালয় ভাঙ্গনের মুখে পড়ায় চর এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়ায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, গাইবান্ধা সদরের কামারজানি ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদ তীরবর্তী এসব এলাকা ভাঙনপ্রবণ। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের কবলে পড়ে এসব এলাকার কয়েক হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়। কিন্তু এ বছর বর্ষা শুরুর অনেক আগেই এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে কামারজানি ইউনিয়নের ৫,৬,৭ এবং ৮নং ওয়ার্ডের কুন্দেরপাড়া, বাটিকামারী, কড়াইবাড়ী এবং খারজানি গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, ফসলি জমি।

কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জাকির হোসেন জাগরণকে বলেন, খারজানিতে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মুজিব কেল্লায় আশ্রয় নেয়া ৫৫টি পরিবার এখন বাস্তুহারা। নতুন করে ঘর তৈরি করার মত অর্থ না থাকায় পরিবারগুলো এখন দুশ্চিন্তায় দিন পার করছে। জরুরিভাবে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা ছাড়া তাদের পক্ষে এমন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। কেউ ধারনাই করতে পারেনি এত কম সময়ে এভাবে নদী ভাঙ্গন হবে।  তিনি আরও বলেন, নদী ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলোর সরকারি সহায্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক কুন্দের পাড়া গ্রামটি পরিদর্শন শেষে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য খাবার ও নিরাপদ স্থানে সড়িয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি সরকারি, বেসরকারি অথবা ব্যক্তিগতভাবে সকলকে ভাঙ্গন কবলিত এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো আব্দুল মতিন জাগরণকে বলেন, এলাকাবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে ভাঙ্গন কবলিতদের পুর্ণবাসনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তাছাড়া বাস্তহারা এই পরিবার গুলোর জন্য নিরাপদ বাসস্থান, খাদ্য ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জরুরি ভিত্তিতে চর উন্নয়ন বোর্ড গঠন করলে স্থায়ীভাবে গাইবান্ধায় চর রক্ষা করা সম্ভব বলেও তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন :