ভারত সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হোয়াটসঅ্যাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:৩৫ PM, ২৭ মে ২০২১

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে ভারত সরকারের নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক নীতির কার্যকারিতা আটকাতে দিল্লির হাই কোর্টে মামলা করেছে ফেইসবুকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপ।

রয়টার্স জানিয়েছে, ওই নীতির একটি বিধান সংবিধানের গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে সেটি বাতিলের আবেদন করা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের মামলায়।

তিন মাস আগে জারি করা ওই নতুন নীতির একটি শর্তে বলা হয়েছে, কোনো তথ্য প্রথম কার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ালো, কর্তৃপক্ষ চাইলে সোশাল মিডিয়া কোম্পানিকে তাকে চিহ্নিত করে দিতে হবে। অবশ্য আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের বস্তুনিষ্ঠ অভিযোগ পেলে তখনই তথ্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেখানে।

হোয়াটসঅ্যাপ বলছে, তাদের ব্যবহারীদের বার্তার গোপনীয়তা এনক্রিপশনের মাধ্যমে আদান-প্রদানকারীর মধ্যেই সুরক্ষিত থঅকে। এখন ভারত সরকারের নতুন নিয়ম মানতে হলে হোয়াটসঅ্যাপকে তথ্য গ্রহিতা এবং তথ্য দাতা- দুই পক্ষের গোপনীয়তাই ভাঙতে হবে।

এ মামলার ওপর আদালতে কখন শুনানি হতে পারে- সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেনি রয়টার্স। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় এ বিষয়ে জড়িত ব্যক্তিরা নিজেদের পরিচয়ও প্রকাশ করতে চাননি।

এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের উত্তরে হোয়াটসঅ্যাপের মুখপাত্রও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ মামলার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফেসবুক, অ্যালফাবেট ও টুইটারের বিরোধের মাত্রা আরও বাড়ল।

কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া নির্দেশনায় তিন স্তরের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করে প্রত্যেক প্ল্যাটফর্মের জন্য অবশ্যই অভিযোগ নিরসন প্রক্রিয়া রাখার কথা বলা হয়েছে। সেজন্য ভারতে তাদের অফিস থাকতে হবে, সেখানে একজন প্রধান নির্বাহী থাকবেন এবং তাকে ভারতের বাসিন্দা হতে হবে।

প্রত্যেক প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগের জন্য একজনকে দায়িত্ব দিতে বলা হয়েছে শর্তে, যিনি আইনরক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক কোম্পানি ফেসবুকের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ভারতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আছে।

ফেসবুক বলেছে, সরকারের নির্দেশনার বেশ কিছু শর্তের সঙ্গে তারা একমত, তবে কিছু বিষয় নিয়ে তারা আলোচনা করতে চায়। আর সরকারের কথা মত পোস্ট না সরানোর কারণে তোপের মুখে থাকা টুইটার কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৩ কোটি , ইউটিউব ব্যবহারকারী ৪৪ কোটি ৮০ লাখ, ৪১ কোটি মানুষ ফেইসবুক ব্যবহার করেন, ইনস্টাগ্রামের ২১ কোটি অ্যাকাউন্ট ভারতীয়দের, আর টুইটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাড়ে ১৭ কোটির বেশি।

আপনার মতামত লিখুন :